বাংলাদেশ , শনিবার, ৬ জুন ২০২০

বাবুল আজাদের সাহসিকতা : বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ ত্রাণবাহী কার্ভাড ভ্যান জব্দ, আটক-২

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৫ ১৫:১২:৪৭ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৫ ১৫:১২:৪৭

বিশেষ প্রতিবেদক : কক্সবাজারের মহেশখালীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেড় লাখ ইয়াবাসহ চোরাচালানের সহযোগী দুজনকে আটক করেছে। এ সময় ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত একটি কার্ভাড ভ্যান জব্দ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোর ৪টায় তাদের আটক করা হয়। আটক হওয়া একজন চট্টগ্রামের কালামিয়া বাজার এলাকার করিম উল্লাহ (৩৫)। অন্যজন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের লাকসামের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ (৩২)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহেশখালী থানার ওসি (তদন্ত) বাবুল আজাদের দুঃসাহসিক অভিযানে ইয়াবার এই বড় চালানসহ চোরাচালানের সহযোগী দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বাবুল আজাদ এই থানায় যোগদানের পর থেকে কমে এসেছে নানা ধরণের অপরাধ। তার বিচক্ষণতা দিয়ে পাহাড়ী আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণের অস্ত্র উদ্ধারসহ বড় ধরণের অভিযান পরিচালনা করে ফিরিয়ে এনেছেন পুলিশের ভাবমূর্তি এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা। এ কারণে তিনি বহু পুরুষ্কারে ভূষিত হয়েছেন।
মহেশখালী থানা পুলিশ জানায়, ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ডেইল পাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ওসমান গনি ও তার জামাতা স্পিডবোট চালক সাদ্দামের বাড়ি থেকে এই বিশাল ইয়াবা চালান কাভার্ডভ্যান করে পাচারের জন্য রওনা হয়। গোপনে খবর পেয়ে মহেশখালী থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর ও ওসি (তদন্ত) বাবুল আজাদের নেতৃত্বে লম্বা ঘোনা নামক স্থান থেকে ইয়াবাসহ দুই সহযোগীকে আটক করে। এ সময় একটি কাভার্ডভ্যান জব্দ করে।
এলাকাবাসী জানায়, বিপুল পরিমান ইয়াবা আটকের পর থেকে ওসমান গনি মেম্বার ও তার ছেলে এবং নব্যকোটিপতি সাদ্দামসহ বেশ কজন আত্মগোপনে চলে যায়। দীর্ঘদিন ধরে মেম্বারের পরিবাবারে সদস্যরা ও মেয়ের জামাই সাদ্দাম ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। স্থানীয় মানুষদের ত্রাণ দেয়ার কথা বলে কাভার্ডভ্যান করে কিছু ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে আসে । ওই ভ্যানে করে ইয়াবার বিশাল চালানটি পাচারের চেষ্টা করছিল।
মহেশখালী থানার ওসি তদন্ত বাবুল আজাদ জানান, ছোট মহেশখালী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ওসমানের বাড়িতে সোমবার রাতে অবস্থান নেন ইয়াবাচালান কারবারিরা। মঙ্গলবার ভোরে ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় লম্বা ঘোনা নামক স্থান থেকে ইয়াবাসহ দুই কারবারিকে প্রায় দেড় লাখ পিস ইয়াবাসহ আটক করে। আটক হওয়া ইয়াবা কারবারিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় তারা ছোট মহেশখালী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ওসমান ও তার জামাতা সাদ্দামের কাছ থেকে ইয়াবাগুলো নিয়ে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকা যাবে। এ ছাড়াও এর আগেও ৩০ হাজার পিস ইয়াবার চালান নিয়ে গেছে বলে স্বীকার করেন। ঘটনার পর পরই ইয়াবার গড়ফাদারদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা। আটক ও পলাতক ইয়াবা কাবারিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদকদ্রব্য আইনের মামলা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ :