বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

জেলে পল্লিতে ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য

প্রকাশ: ২০২০-০৭-২৩ ০৭:১৩:৪৩ || আপডেট: ২০২০-০৭-২৩ ০৭:১৪:০৪

এম. আমান উল্লাহ : টানা ৬৫ দিন মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ প্রাণহীন থাকা জেলে পল্লিগুলোতে আবার ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য। শুরু হয়েছে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা। এ কারণে কক্সবাজার উকূলের প্রায় সাত হাজার মাছ ধরার নৌকা সাগরে নামা শুরু করেছে।
সমিতি পাড়ার জেলে সোনা মিয়া জানান, করোনা ভাইরাস ও সাগরে মাছ ধরার উপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলে পল্লীতে দুর্দিন যাচ্ছিল। যার ফলে এ বছর জেলেদের খুবই মানবেতর দিন কেটেছে।
তিনিেআরো বলেন, দীর্ঘদিন পরে এ নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। আমাদের রুটি-রুজির পথ খুলেছে। যে কারণে জেলে পল্লিগুলোতে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে মাছসহ মূল্যবান প্রাণিজ সম্পদের ভান্ডারের সুরক্ষায় গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের জন্য বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞা শেষ হয় বুধবার মধ্যরাতে। জাটকা নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সফলতাকে অনুসরণ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি চিংড়ি, কাঁকড়ার মতো ক্রাস্টেশান আহরণও ছিল এই নিষেধাজ্ঞার আওতায়।
কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানান, কক্সবাজারে ছোটবড় প্রায় ৭ হাজার মাছ ধরা ট্রলার রয়েছে। আর এ পেশায় নিয়েজিত আছেন প্রায় লক্ষাধিক জেলে। আজ সকাল থেকে কিছু ফিশিং বোট সাগরে রওনা দিয়েছে। আবাহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাল শুক্রবার-শনিবারের মধ্যেই শতভাগ ট্রলার সাগরে মাছ ধরতে যাবে।
কক্সবাজার শহরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ফিশারিঘাটস্থ মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালক জুলফিকার আলী বলেন, ছোট মাছগুলো বাজারে পাওয়া গেলেও ইলিশ পেতে আরো ৫/৭ দিন সময় লাগবে। ট্রলারগুলো মাছ ধরে কয়েকদিন পর ঘাটে ফিরতে শুরু করলেই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে।
কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম. খালেকুজ্জামান বিপ্লব বলেন, আগে সমুদ্রে বিভিন্ন প্রজাতির বড়বড় মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন সচরাচর সে রকম মাছ পাওয়া যায় না। প্রজননকালীন সময়েও সাগরে মাছ শিকার এর অন্যতম কারণ।
তিনি বলেন, মাছ ধরার উপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে কিন্তু সুফল আসতে শুরু করেছে। বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বর্তমানে সাগর মৎস্য ভান্ডারে পরিণত হয়েছে।

ট্যাগ :