বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

নিজ দেশে ছেলের অভাবে তরুণীরা বিদেশ চলে যাচ্ছে!

প্রকাশ: ২০২০-০৭-২৪ ০২:৪৫:৩৩ || আপডেট: ২০২০-০৭-২৪ ০৩:০২:৫৪

অনলাইন নিউজঃ লাতভিয়ায় পুরুষ সংঙ্কটে মেয়েরা।তাই দেশের চারপাশ ঘিরে আছে শুধু মেয়ে৻ আর সেজন্যে নিজ দেশ ছেড়ে ছেলের অভাবে তরুণীরা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে এবং সেখানে তারা খুঁজে নিচ্ছে পছন্দের ছেলেবন্ধুদের।
বাল্টিক রাষ্ট্র লাতভিয়া সাবেক কমিউনিষ্ট সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে এসে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে — প্রায় দুই দশক হতে চললো৻
কিন্তু, পুঁজিবাদি ব্যবস্থায় লাতভিয় মহিলারা যতোটা এগিয়েছেন, ততোটাই পিছিয়ে পড়ছেন সেখানকার পুরুষরা৻
পুরুষদের চেয়ে মেয়েরা সেখানে গড়ে এগারো বছর করে বেশী বাঁচছেন৻ ফলে, তৈরী হয়েছে নারী-পুরুষের মধ্যে এক সামাজিক ভারসাম্যহীনতা৻
রিগার এক ক্যাফেতে দুই তরুণী দানিয়া এবং যেইন গল্প করছেন – যে গল্পের বিষয় একটাই – কোন ভালো পুরুষের দেখা তাঁরা পেলেন না৻
দুজনেরই বয়স উনত্রিশ – সুন্দরী, কেতাদুরস্ত এবং উচ্চশিক্ষিত৻
কিন্তু, মনে হচ্ছে লাটভিয়ায় যথেষ্ট পুরুষ নেই – যাঁদেরকে এঁরা জীবনসঙ্গী করতে পারেন৻
‘‘এখানকার মতোই আমি যে ফিল্ম ফেস্টিভালের জন্য কাজ করি – সেখানেও ৯৮% হলেন মেয়ে,‘‘ দানিয়া বলছিলেন, ‘‘তাতে কোন দোষ হচ্ছে সেকথা না বললেও যেটা বলা যায় তা হোল এটা একেবারেই একঘেঁয়ে৻‘‘
দানিয়ার কথায়: ‘‘মেয়েগুলো ভালো – কিন্তু, একটু গালগল্প করা বা ফষ্টিনষ্টি করার জন্য কিছু পুরুষলোক তো প্রয়োজন৻ এখানে তাকিয়ে দেখুন – আপনি ছাড়া এখানে পুরুষ আছে আর একজন৻ বাকীরা সবাই মেয়ে৻‘‘
যেইন বলছিলেন, ‘‘আমার সারাটা – জীবন আমার চারপাশ ঘিরে আছে শুধু মেয়ে৻ এটাই হলো আসল সত্য৻ আর সেজন্যে আমার সব বান্ধবীরা বিদেশে চলে গেছে এবং সেখানে তারা ছেলেবন্ধু খুঁজে নিয়েছে৻‘‘
নারী -পুরুষের এই ভারসাম্যহীনতার প্রকৃষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় লাতভিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে – এখানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরুষের চেয়ে মেয়ের সংখ্যা ৫০% বেশী ৻
সুতরাং, লেখাপড়ায় সমতূল্য যোগ্যতার কোন পুরুষসঙ্গী খুঁজে পেতে মেয়েদের সমস্যায় পড়াটাই স্বাভাবিক৻
সমাজবিজ্ঞানী বাইবা বেলা বলছেন, মেয়েরা যে বয়সে সংসার গড়ার জন্য তৈরী হয় সেই বয়সে দেখা যায় ছেলেরা হয় মারা যাচ্ছে নয়তো আত্মহত্যা করছে৻
আর এই আত্মহত্যার সংখ্যা হচ্ছে তাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর চারগুণ৻
নারী-পুরুষের ভারসাম্যহীনতা প্রথম বোঝা যায় ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়েসীদের মধ্যে – কারণ ঐ বয়সে যে‘কজন মেয়ে মারা যাচ্ছে – তার চেয়ে তিনগুণ বেশী মারা যাচ্ছে ছেলেরা৻
এর অর্থ হচ্ছে , ঐ বয়েসীদের মধ্যে গাড়ী দুর্ঘটনা, মাদকাসক্তি, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের ঝুঁকি বেশী৻
মেয়েদের চেয়ে বেশীসংখ্যায় ছেলেদের যেখানে দেখা যায় সেটা হলো একমাত্র পানশালা৻ সেখানেই বোঝা যায় কেন ছেলেরা এতো অল্পবয়সে মারা যায়৻
এরকম এক পানশালায় পাওয়া গেল ২৮-বছর বয়েসী এগ্রিস রিয়েক্সটসকে৻ সে অবশ্য জানায় যে লাতভিয়ার পুরুষদের মধ্যে এখনও পৌরুষ দেখানোর একটা প্রবণতা আছে যেকারণে তারা দ্রুত গাড়ি চালায় , অত্যধিক হারে মদ এবং ধূমপান করে৻
‘‘পৌরুষের এই বিষয়টা একধরণের ধারণার বিষয়৻ তুমি যতো বেশী মদ খেতে পারবে ততো বেশী তোমার পৌরুষ আছে৻ কেউ একটু ভেবে দেখলেই বুঝতে পারবে যে এটা অবাস্তব একটা বিষয় – কিন্তু, তারপরও এটা আছে,‘‘ তিনি বলেন, ‘‘ছেলেরা গর্ব করে বলে যে আমি ০.৭ লিটার ভদকা খেয়েছি এবং তারপরও একা বাড়ি ফিরেছি৻ তারা এমনভাবে কথাটা বলে যেন সে কিছু একটা অর্জন করেছে – যদিও তা নির্বুদ্ধিতা৻ এটা কোন দক্ষতার বিষয় নয়৻‘‘
কিন্তু, মেয়েরাও আবার এধরণের ছেলেদের পছন্দ করে না৻ ফলে দুরত্বটা থেকেই যাচ্ছে৻
অন্যদিকে, মনোসমীক্ষক আর্নিস ষ্ট্যাবিঞ্জিস বলছেন যে ২০ বছর আগে হঠাৎ করে পুঁজিবাদে রুপান্তরের কারণে পুরুষদের ওপর একটা চাপ তৈরী হয় যে তাকে আর্থিক দিক দিয়ে সফল হতে হবে৻
কিন্তু, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এই চাপ আরো বেড়েছে – কেননা সেখানে এখন কাজ নেই – বেকারত্বের হার ২০%-এর বেশী৻
সুতরাং, ২০০৮ সালে বৈশ্বিক আর্থিক মন্দা যখন সেখানে ছায়া ফেলল , তখন লাতভিয় পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও বেড়ে গেল৻
এই বৃদ্ধির হার আনুমানিক ১৬%৻ বলা হচ্ছে লাতভিয় পুরুষদের আত্মহত্যার হার ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশী৻

সুত্রঃ BBC NEWS

ট্যাগ :