বাংলাদেশ , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

কক্সবাজারে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ : চলছে অভিযান

প্রকাশ: ২০২০-০৭-৩১ ১১:২৩:৩৪ || আপডেট: ২০২০-০৭-৩১ ১২:১৭:৫৭

জাহেদুল ইসলাম : ১৬ ডিসেম্বরকে টার্গেট করে নির্দিষ্ট সময়সীমার ভিতরে মাদক বিজয়ের লক্ষে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত দেশব্যাপী মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলা ব্যাপি চলছে কঠোর অভিযান। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবি এম মাসুদ হোসেনের দুঃসাহসিক নির্দেশনায় জেলার আটটি থানায় কর্মরত পুলিশের চিরুনি অভিযানে ইতিমধ্যে ভেঙ্গে চুরমার হতে চলছে মাদক কারবারিদের দীর্ঘদিনের শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
জেলা পুলিশের আরেক অপ্রতিরোধ্য কর্মবীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন)ইকবাল হোসেনের নির্ঘুম তত্বাবধানে জেলায় অন্তর্গত প্রতিটি থানার কর্মরত কর্মকর্তারাও বিরতিহীন চালিয়ে যাচ্ছেন মাদক সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান।
ছোট বড় কেউই রেহাই পাচ্ছে না অকল্পনীয় এই অভিযানে। ইতিমধ্যে জেলার প্রতিটি থানায় আটক করা হয়েছে অতীতে পার পাওয়া মাদকের অনেক বড় সম্রাট সম্রাজীদের।রক্ষা পাচ্ছে মাদকের বোয়াল পুঁটি কেউই।গ্রেফতার এড়াতে অতীতের সাধুবেশী অনেক মাদক মহাজনেরা সম্প্রতি লোকচক্ষুর অন্তরালে আড়াল হলেও প্রতিনিয়ত হন্য হয়ে খুজে বেড়াচ্ছে তাঁদের। অভিযান চালানো হচ্ছে এসকল মহাজনের অবস্থান করা সম্ভাব্য স্থানে যার ফলে আটক হচ্ছে অনেকে।দলমত নির্বিশেষে জেলা ব্যাপি মাদক বিরোধী এমন অভিযানে সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে অপ্রত্যাশিত এক প্রাণ চাঞ্চল্য।অভিযানে উৎসবমুখর পরিবেশে তৃণমূলের আপামর জনসাধারণসহ নানান সহায়তায় সাড়া দিচ্ছে জেলার সর্বস্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র জনাব মাসুদ হোসেন বলেন, সরকার ঘোষিত মাদক বিরোধী এমন অভিযানে কেউই যেন ছাড় না পায়। মাদকের জিরো টলারেন্স টার্গেট করে জেলা ব্যাপি আমাদের এই অভিযান।তাই আমার অন্তর্গত সকল সদস্যকে নিয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আপন পর নেতা কর্তা ধনী বড়ছোট কোন ভেদাভেদ বিহীন সকল মাদক সম্পৃক্তদের আইনের আওতায় আনা আমার মূল লক্ষ্য।
জনগণের জানমাল রক্ষা করে আগামী প্রজন্মের সুন্দর জীবন চিন্তা করে মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে জেলাব্যাপি কর্মরত পুলিশ বাহিনীর সকল সদস্যদের নিয়ে আমি বদ্ধপরিকর।জেলায় মাদকের আঁচড় সমূলে বিনাশ করাটাই যেমন আমাদের মূল লক্ষ্য পাশাপাশি সন্ত্রাস, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, খুন খারাপিসহ আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি বজায় রেখে পুরো জেলায় এই অভিযান অভ্যাহত রয়েছে বলেও জানান।
জেলা ব্যাপি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সর্বস্তরের জনগণের সাড়া জাগানো মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের ফলে সরকার ঘোষিত নির্দিষ্ট সময়সীমার পূর্বেই এই জেলা থেকে মাদকের শিকড় পর্যন্ত উপড়ে ফেলার উদ্দেশ্যে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের চেষ্টা এবং কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে মাদকমুক্ত একটি দেশ এবং জাতি হিসেবে আগামী প্রজন্মের জন্য উপহার স্বরূপ রেখে যাওয়াটায় আমাদের একান্ত কামনা। ইনশাআল্লাহ আশাকরি অতি-স্বল্প সময়ে এমনি একটি জেলা হিসেবে আমরা দেখত পাবো বলে এমনটা জানিয়েছেন জেলা পুলিশের আরেক অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন)ইকবাল হোসাইন।
জেলায় অন্তর্গত প্রতিটি থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে বর্তমান মাদক বিরোধী অভিযানের সার্বিক বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে উঠে আসে হিমশিম খাওয়া পরিস্থিতির নানান তথ্য।সুত্র মতে, মাদক বিরোধী এমন অভিযান পরিচালনায় দেশ জাতীর জন্য যেমনটা বয়ে আনবে কল্যাণকর সুন্দর পরিবেশ কার জন্য রয়েছে অভিযানে নিয়োজিত সকল যোদ্ধাদের অকল্পনীয় ঝুঁকি।তবুও সুন্দর দেশ জাতির আশায় নানান প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিনিয়ত মাদক বিরোধী সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে বলে এমনটা জানিয়েছেন জেলার প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ।
মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের ব্যস্ততম জেলা শহরের মাদক সম্রাটের আতংক খ্যাত কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)শাহাজাহান কবির জানান, মান্যবর পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশ মাদক বিরোধী চলমান অভিযানে মাদক লেনদেন জড়িত সকলকে আমরা আইনের আওতায় আনতে প্রস্তুত রয়েছি। ইতিমধ্যে শহরের অদৃশ্য ক্ষমতাধর শক্তিশালী অনেক মাদক সম্রাটদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করতে সক্ষম হয়েছি।রাঘববোয়ালদের আটক করতেগিয়ে ঘটেছে কতোই না বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা আর তাতে আহত হয়েছে অনেক সহযোদ্ধা নিহত হয়েছে অনেক মাদক সম্রাট।আমরা চাই সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মাদক কারবারিরা হোক অস্তিত্ব হীন।
সিমান্তের অতন্দ্র প্রহরী খ্যাত টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, মাদক ট্রানজিট হিসেবে পরিচিত উক্ত এলাকায় রয়েছে দেশের অনেক শক্তিশালী মাদক সম্রাট রয়েছে তাদের সীমান্তবর্তী মায়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের যোগসূত্রের সন্ত্রাসী গ্রুপ। জেলা পুলিশের কর্ণধার এসপি মহোদয়ের নির্দেশে নানান প্রতিবন্ধকতার মাজেও আজ-অব্দি অনেক মাদক সম্রাটদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি।দেশের অনেক শক্তিধর মাদক সম্রাটদের সাথে আমাদের সম্মুখ যোদ্ধ হয়ে অনেক সহকর্মী আহত হয়েছে।মাদক অস্ত্র উদ্ধারসহ এসব যুদ্ধে অসংখ্য মাদক কারবারি হতাহত হয়েছে। তাই জেলা পুলিশের সহায়তায় এই শহরে হয়তো মাদক কারবারিরা থাকবে নাহয় পুলিশ থাকবে সরকার ঘোষিত অভিযানের পাশাপাশি এটাই আমার প্রতিজ্ঞা।
মাদক ট্রানজিটের আরেক যোদ্ধা ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থীর অন্যতম নিরাপত্তা রক্ষী প্রধান উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্জিনা আক্তার জানান, একদিকে মাদকবাজ অন্যদিকে বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গা। সবমিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হিমশিম পরিস্থিতি হলেও জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে সরকারের চলমান অভিযানে কোন মাদক ব্যবসায়ি যেন উখিয়া এলাকায় রক্ষা পেতে না পারে এই চিন্তা মাথায় রেখে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। যার অনেক সুফল জনগণ পাচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুপারের আন্তরিকতা এবং রামু এলাকার জনগণের প্রতি সাদুবাদ জানিয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, পাহাড়ি দুর্গম জনপদের এই থানায় যেমনটি রয়েছে সাধুবেশী মাদক পাচারকারী তেমনি রয়েছে পাহাড়ি নানান সন্ত্রাসী। তবুও শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেশব্যাপী চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে করনীয় সকল কঠোর কর্মসূচি জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। মাদক প্রতিরোধের কঠোর ভুমিকায় অবিচল রয়েছি প্রয়োজনে আরও বেশি কঠোর ভুমিকা পালন করতেও দ্বিধা বোধ করবো না।
জেলা দ্বিতীয় প্রধান শহর হিসেবে পরিচিত চকরিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান জানান,ভিন্ন জেলা সংযুক্ত চকরিয়া শহরের বুক চিরে ছুটে চলা অন্যতম প্রধান সড়ক সংযুক্ত জনবহুল এই উপজেলায় মাদক বিরোধী চলমান অভিযানে অনেকটা কষ্টসাধ্য হলেও জেলা পুলিশের অতুলনীয় সহযোগিতায় মাদক সন্ত্রাসসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।যাঁর প্রতিফল হিসেবে প্রতিনিয়ত আমাদের হাতে আটক হচ্ছে একের পর এক মাদক ব্যবসায়ি।
একইভাবে মতবাদ ব্যক্ত করেন পেক‍ুয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল আজম জানান,জেলা পুলিশের তত্বাবধানে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে পেকোয়া উপজেলা থেকে মাদক কারবারিদের উৎখাত করতে যা যা করনীয় পেকোয়ার পুলিশের পক্ষ থেকে অভ্যাহত রয়েছে যা অনেকাংশে সুফল বয়ে আনছে।
জেলার অন্যতম যাতায়াত সংকটাপন্ন দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম শফিকুল ইসলাম জানান,উপকূলীয় এবং জলপথ ব্যাতীত সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই থানা এলাকায় যেমনটি রয়েছে কিছু ছিচকে জলদস্যু এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীর যাতায়াত তেমনিভাবে রয়েছে গুটিকয়েক মাদক কারবারি।তারা একে অপরের সম্পূর্ণ পরিপূরক। তাই সবমিলিয়ে জেলা পুলিশের উর্ধতন কতৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় দ্বীপ থানা পুলিশ,উর্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশনা মতে নির্দিষ্ট সময়সীমার পূর্বেই মাদক মুক্ত একটি দ্বীপ উপজেলা হিসেবে জাতির কাছে তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টায় প্রতিনিয়ত মাদক বিরোধী অভিযান অভ্যাহত রেখে দৈনন্দিন এগিয়ে চলছে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: দিদারুল ফেরদ‍াউস জানান, উক্ত উপজেলার অন্যতম ঝুকিপূর্ণ এলাকা সোনাদিয়া দ্বীপ যেখানটা জলদস্যু এবং ডাকাত সন্ত্রাসীদের সমুদ্র পতে যাতায়াতের নিরাপদ সড়ক বল্লেই চলে। এছাড়াও দুর্গম পাহাড় বেষ্টিত এলাকার বিভিন্ন অরণ্যে রয়েছে বিভিন্ন অস্ত্রধারি ডাকাত সন্ত্রাসীর আবাসস্থল। সাম্প্রতিক কালে উক্ত এলাকার অনেক জলদস্যু এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা সরকারের কাছে আন্ত সমর্পণ করলে-ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অনেকে। যাদের আইনের আওতায় আনতে প্রতিনিয়ত পুলিশের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নানান বাধাবিপত্তির মাঝে-ও সরকার ঘোষিত মাদক বিরোধী জিরো টলারেন্সের বাস্তবায়ন করতে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশক্রমে মহেশখালী থানা পুলিশ যথেষ্ট আন্তরিক রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই দ্বীপের জনগণ মাদকবিরোধী অভিযানের সুফল আঁচ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার সহিত সাদুবাদ জানাচ্ছেন। যা বর্তমান সরকারের গৌরবের একটি অংশ বলে জানান। জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান এমন অভিযাকে ইতিমধ্যে স্বাগত জানিয়েছেন সুশীল সমাজের অনেকে।

ট্যাগ :