বাংলাদেশ , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

মহেশখালীর মালেক হত্যার সুবিচার চায় পবিবার

প্রকাশ: ২০২০-০৮-০৮ ১৬:২৮:২৪ || আপডেট: ২০২০-০৮-০৮ ১৬:২৮:২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ২টি বছর পার হয়ে গেলেও মালেক হত্যা মামলার কোন কুল কিনারা হয়নি। পিতা হত্যার বিচারের অপেক্ষায় ছেলে-মেয়ে, স্বামী হত্যার বিচারের অপেক্ষায় স্ত্রী ও ভাই হত্যার বিচারের অপেক্ষায় বোন পথ চেয়ে বসে আছে। আর কত অপেক্ষা করলে মালেক হত্যার বিচার দেখতে পারে মালেকের পরিবার। এমনটিই প্রত্যাশা করে প্রহর গুনছেন মালেকের পরিবার। বড় মহেশখালীর জাগিরা ঘোনা এলাকার মৃত সাহাব মিয়ার ছেলে আবুল কালাম, মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে আবদুল মান্নান প্রকাশ মান্না, শুকরিয়া পাড়ার ফজর রহমানের ছেলে জাফর আলম, হেতায়তর রহমানের ছেলে নুরুল কবির ও মৃত হাজী নুর আহমদের ছেলে সিরাজ মিয়ার সাথে হোয়ানক ইউনিয়নের পানির ছড়া বাজার এলাকার মৃত বশির আহমদের ছেলে লবণ ব্যবসায়ী আবদুল মালেকের মালিকানাধীন লবণ মাঠ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মালেকের বিরোধী পক্ষ ছিল প্রভাবশালী ও ভিত্তশালী। মালেকের লবণ মাঠের পলিথিন ও লবণ বারবার থানার মাধ্যমে নিয়ে যেত প্রতিপক্ষ। এমনকি ওই সময় মহেশেখালী থানার এসআই রাজু ওসি প্রদীপের নির্দেশে মালেককে হত্যার হুমকীও দিয়ে আসছিল। তারই ধারা বাহিকতায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওসি প্রদীপ এর নেতৃত্বে মালেককে হত্যা করা হয়। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩১ আগষ্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মালেকের বাড়ি থেকে পরিবারের সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে এবং রাস্তায় শতশত মানুষের সম্মুখে ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে মালেককে তুলে নিয়ে সিএনজি যোগে সরাসরি শাপলাপুর পাহাড়ের দিনেশপুর ঢালার চিতার ঝিরি এলাকায় নিয়ে গুলি করে মালেককে হত্যা করে। বেলা সাড়ে বারটার দিকে মালেকের পরিবার লাশের খবর পায়। পরে রাত ১১টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে তার দাফন শেষ করা হয়। এরপর কোন ধরণের আইনী প্রক্রিয়ায় না জড়াতে ওসি প্রদীপ মালেকের পরিবারকে হুমকী দিয়ে যায়। জড়ালে তাদের অবস্থাও মালেকের মত হবে বলে সাফ জানিয়ে দেয়। পরে নিহত মালেকের স্ত্রী পারভিন আক্তার বাদী হয়ে ভয়ে পুলিশ কে আসামী না করে ঘটনায় জড়িত অপর ৫জন কে আসামী করে একটি সিআর মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং- ১০২/১৮ (মহেশখালী)। পুলিশি জটিলতায় যার এখনও কোন অগ্রগতি হয়নি। ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আদালত মহেশখালী থানাকে একটি নির্দেশনা দেয়। যাতে লিখা হয় যেহেতু একই ঘটনা নিয়ে মহেশখালী থানায় একটি জিআর ১৯৪/১৮ (মহেশখালী) মামলা রয়েছে সেহেতু ওই মামলার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সিআর মামলাটি স্থগিত রাখা হয়েছে এবং আদেশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মহেশখালী থানাকে নির্দেশ প্রধান করা হয়েছে। কিন্তু থানাপক্ষ আদালতের আদেশকে অমান্য করে অদ্যবদি প্রতিবেদন না দিয়ে নিহত মালেক পরিবারকে হয়রানী করছেন।
এ ব্যাপারে নিহত মালেকের স্ত্রী পারভিন আক্তার জানান, চোখের সামনে আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে মেরে ফেলা মোটেও মেনে নিতে পারছিনা। কারণ আমার স্বামী ছিল নিরপরাধ। এরপরও মহেশখালী থানার পক্ষ থেকে নিয়মিত হয়রানীর শিকার হচ্ছি। তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী ও ভিত্তশালী হওয়ায় টাকা দিয়ে থানাকে ম্যানেজ করে প্রতিবেদনটি বন্ধ করে রেখেছে। আমরা অসহায় হিসাবে প্রশাসনের হস্কক্ষেপ কামনা করে আমার স্বামী হত্যার সু-বিচার কামনা করছি। এব্যাপারে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচাজর্ দিদারুল ফেরদৌস জানান, আমি মহেশখালী থানায় সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ট্যাগ :