বাংলাদেশ , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

টেকনাফের হ্নীলার ইয়াবা সুন্দরী মমতাজ অধরা!

প্রকাশ: ২০২০-০৮-০৮ ২০:১৯:২৫ || আপডেট: ২০২০-০৮-০৮ ২০:১৯:২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব সিকদার পাড়ার স্বামী পরিত্যাক্ত ইয়াবা সুন্দরী মমতাজ বেগম দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে দেদারছে পাচার করে যাচ্ছে মরণ নেশা ইয়াবা। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে কক্সবাজার, ঢাকা-চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এ ইয়াবা সরবরাহ করে থাকে। এলাকাবাসী জানান, নানা ধরণের পোষাক পরিবর্তনের মাধ্যমে অভিনব কায়দা গ্রহণ করায় প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিতে সহজ হয়। সম্প্রতি করা পুলিশের ইয়াবা তালিকায় তার নাম থাকলেও সে অধরা রয়ে যায়। এমনকি তার স্বামী তাকে (মমতাজকে) ইয়াবা বাণিজ্য বন্ধ করতে বলায় ৩ ছেলে সন্তান নিয়ে গড়া সুখের সংসার ভাংগতেও দ্বিধাবোধ করেনি। টাকার লোভে স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে পিতার বাড়ি চলে যায় সে।

সুত্রে জানা যায়, হোয়াইক্যং কাঞ্জর পাড়া এলাকার জনৈক ধলুর সাথে মমতাজের মুসলিম শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর দীর্ঘ দিন তাদের সংসার সুখের হলেও পরে ইয়াবার কারণে অসান্তি সৃষ্টি হয়। কয়েক বছর আগে থেকে মমতাজ স্বামীর অজান্তে জডিয়ে পড়ে ইয়াবা পাচারে। নানা বাহানায় ছুটে বেড়ায় ঢাকা চ্টগ্রামে। তা থেকে বাঁচাতে স্ত্রীকে নিয়ে নতুন ভাবে বসবাস শুরু করে কক্সবাজার পৌর ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কুতুবদিয়া পাড়ায়। এরই মাঝে তাদের ৩ ছেলে সন্তান জন্ম হয়। ধুলু, স্ত্রী সন্তনের সুখের জন্য সমিতিপাড়া বাজারে বড় একটি চাউলের দোকান নিয়ে ব্যবসা শুরু করে। এরপরও তার স্ত্রীকে অনৈতিক অবন্থা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। পরে মমতাজ কক্সবাজার পৌর ১ নং ওয়ার্ড যুবলীগের প্রভাবশালী এক নেতাকে ইয়াবার ব্যবসায়ীক পাটর্নার হিসাবে যুক্ত করে। শুরু হয় উত্তরাঞ্চলে ইয়াবা পাচার। তখন মমতাজ ও ওই নেতাকে আর পিছনে ফিরতে হয়নি। বনে যায় টাকা ওয়ালা।

এদিকে ইয়াবা নিয়ে এক সাথে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়তের কারণে মমতাজ ও তার ইয়াবা পার্টনারের মাধে গড়ে উঠে পরকিয়া। শুরু হয় স্বামীর সাথে মনোমালিন্য। তারা দু”জনের মাঝে সম্পর্ক এতই গভির হয় ৩ ছেলের কথা না ভেবে মমতাজ ডিভোর্স দিতে বাধ্য হয় তার স্বামী ধলুকে। পরে মমতাজ বসবাস শুরু করে পিতার বাড়িতে। একা থাকার সুবাদে বর্তমান সময়ে মমতাজ ও ওই নেতার সম্পর্ক আরও গভির থেকে গভিরতম হয়ে উঠে। তাদের রয়েছে ঢাকা চট্টগ্রামের ইয়াবা ক্রয়ের বিভিন্ন পার্টি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হ্নীলা সিকদার পাড়ার এক মহিলা জানান, মমতাজের রয়েছে কয়েকজন ইয়াবা পাচারের জন্য নিযুক্ত সদস্য। তাদের কাজ হচ্ছে হ্নীলা থেকে ইয়াবা নিয়ে ঢাকা চট্টগ্রামের ঠিকানা অনুযায়ী পৌঁছে দেওয়া। আর মমতাজ ও তার পার্টনার যুবলীগ নেতার কাজ হচ্ছে আগে থেকে ওই স্থানের কোন হোটেলে অবস্থান করে টাকা নেওয়া। পরে দু একদিন থেকে পুনরায় চলে আসে। মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্ছার সমাজকর্মীদের অনেকেই বলেন, ইয়াবাকারবারীদের অতীত আর বর্তমান সহায় সম্পক্তির ব্যাপারে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

সচেতন মহল বলেন, ইয়াবার মাধ্যমে গজে উঠা অঢেল সহায় সম্পত্তি সরকারি কোষাঘারে নিয়ে যাওয়া হলে ইয়াবাকারবারীদের এ পেশা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় থাকবেনা। যেহেতু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদক নিয়ন্ত্রনে এক পায়ে খাড়া। তারা আরো বলেন, বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলো ইয়াবার বাজারে পরিনত হয়েছে। এদের মাধ্যমে ইয়াবার সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে স্থানীয় যুবসমাজ, স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র- ছাত্রী ও স্বামী পরিত্যক্ত মহিলারা। ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে ইয়াবা সেবনে অভ্যস্থ হচ্ছে ৮০ শতাংশ পরিবারের কোন না কোন সদস্য। এদের কারনে পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অনেকের অভিমত। এ বিষয়ে টেকনাফ থানার দায়িত্বরত এক অফিসার জানান, যত বাধাই আসুক না কেন, টেকনাফ উপজেলাকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদমুক্ত করা হবে। তিনি আরো বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা যতবড়ই শক্তিশালী হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।

ট্যাগ :