বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

“রাতের অন্ধকারে কলাতলীতে কোটি টাকার সরকারী জমি দখল” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা ও বিবৃতি

প্রকাশ: ২০২০-১০-০৬ ১৭:২৪:৩০ || আপডেট: ২০২০-১০-০৬ ১৭:৩৩:৪৬

কক্সবাজারের কয়েকটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় ও অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে (যথাক্রমে ৫ অক্টোবর অনলাইনে ও ৬ অক্টোবর পত্রিকায়) প্রকাশিত “রাতের অন্ধকারে কলাতলীতে কোটি টাকার সরকারী জমি দখল” শিরোনামের সংবাদটি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। আমি এই মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্য প্রনোদিত, প্রতিহিংসা পরায়ন ও লোভের বশবর্তী হয়ে কাল্পনিক নাটক সাজিয়ে প্রকাশ করা সংবাদটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রকাশিত সংবাদটিতে যে সব তথ্য প্রদান করা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা কল্প-কাহিনী। বাস্তবতায় যার কোন ভিত্তি নেই। মূলত প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করতেই একটি সংঘবদ্ধ মহল বেশ কিছুদিন ধরে নানা মুখী পাঁয়তারা চালাচ্ছে। যা ইতিমধ্যে নানাভাবে প্রমানিত। মুলত নালিশী জমিতে বসবাসরত পরিবারকে গায়ের জোরে উচ্ছেদ পূর্বক উক্ত বসত-ভিটা দখলে নিতে জনৈক হারুন নামের চট্টগ্রামের এক ধন কুবেরের টাকার মিশন বাস্তবায়ন করতেই কক্সবাজারের কয়েকটি প্রভাবশালী চক্র আদা-জল খেয়ে মাঠে নেমেছে। তারা মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উদ্ভাস্তু পরিবারের উপর সস্বস্ত্র হামলার চেষ্টসহ নানামুখী অপততপরতা শুরু করেছে। আমরা দেশের প্রচলিত আইন মান্যকারী লোক। আমরা জলবায়ু উদ্ভাস্তু নিরীহ মানুষ। কিন্তু আমাদের দীর্ঘ দিনের বসত-বাড়ি থেকে আমাদেরকে উচ্ছেদ করার পায়তারা সত্যিই নিন্দনীয়।
প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে মাইক্রোওয়েব স্টেশনের পাদদেশে জমি দখল করে পাহাড় কাটা হচ্ছে এবং একাধিকবার অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে। যা সম্পূর্ন কাল্পনিক। আমাদের বসতবাড়িতে কখনো সরকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জরিমানা বা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি। প্রকৃত পক্ষে মাইক্রোওয়েভ স্টেশনের প্রস্তাবিত চৌহদ্দির বাইরে-ই আমাদের বসত বাড়ি। যা মোটেও উক্ত স্টেশনের পাদদেশে নয় এবং আমাদের বসত ভিটা সমতল ভুমিতে। এখানে পাহাড় কাটার প্রশ্নটি সম্পূর্ন অবান্তর।
উল্লেখ্য- মুলত সরকারী জমিতে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণ কালে বারবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত ও জরিমানা করা হয়েছে জনৈক লায়ন মুজিব নামে এক ভুমি দস্যুর বিরুদ্ধে। যার অবস্থান মাইক্রোওয়েভ স্টেশনের পাদদেশে এবং প্রস্তাবিত চৌহদ্দির ভেতরে। প্রকাশিত সংবাদে আরো উল্লেখ করা হয়েছে-“দখল প্রক্রিয়া সহজ করতে বসানো হয়েছে নানান সাইনবোর্ডও” মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ সম্বলিত সাইনবোর্ডে বিস্তারিত উল্লেখ থাকলেও তা প্রকাশ না করে কুরুচিপূর্ন ও ব্যঙ্গাত্মক ভাবে সংবাদে উপস্থাপন করা মারাত্মক অপরাধের সামিল এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে চরমভাবে হেয় ও অসম্মান করা হয়েছে। যা দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি।
উল্লেখ্য: আমরা বিগত প্রায় একযুগ ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানের জলবায়ু উদ্ভাস্তু ২০টিরও অধিক পরিবার কলাতলী টিএন্ডটি রোড ও বাইপাস সড়ক সংলগ্ন এলাকায় সরকারী খাস জমিতে (১নং খাস খতিয়ান)বসবাস করে আসছি। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে জলবায়ু উদ্ভাস্তু পরিবারের পক্ষে আমি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট নীতিমালা অনুযায়ী বন্দোবস্তির আবেদন করি। তার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় ২০১৮ সালে মহামান্য হাইকোর্টে রীট পিটিশন দাখিল করা হয়। যার রীট পিটিশন নং-১০৩৫৪/১৮। রীট মামলাটির শুনানীকালে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ আবেদনকৃত ২০টি পরিবারকে নীতিমালা অনুযায়ী ৫ শতক করে মোট এক একর জমি লীজ বন্দোবস্তি দেয়ার আদেশ দেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আদেশটি বাস্তবায়ন করতে ততকালীন কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) কে নির্দেশ দেন। কিন্তু ততকালীন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আদেশটি কার্যকর করতে বিলম্ব করায় এবং একই সময় কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থাানে সরকারী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হওয়ায় বসত ভিটা রক্ষায় পুনরায় মহামান্য সুপ্রীম কোর্টে কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করেন ভুক্তভোগী ২০ পরিবার। কনটেম্পট পিটিশন নং-৬৫/২০। এই পিটিশনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট আবেদনকৃত ২০ পরিবারকে কোন প্রকার উচ্ছেদ না করার জন্য এবং বন্দোবস্তি প্রদান পূর্বক উচ্চ আদালতে ফিরতি রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি), তহশীলদার (সদর)সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে। যার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
কিন্তু বিগত ২৭ আগষ্ট স্থানীয় চিহ্নিত ভুমিদস্যু আরিফ, কাদের, বশর মাঝিসহ একদল সস্বস্ত্র সন্ত্রাসী আমাদের বসতি এলাকায় অবৈধ প্রবেশ করে উচ্চ আদালতের আদেশ সম্বলিত সাইনবোর্ড ভাংচুর করে নিয়ে যায় এবং বসবাসকারী উদ্ভাস্ত পরিবারের লোকজনকে প্রান নাশের হুমকী প্রদর্শন করে চলে যায়। যার প্রেক্ষিতে আমাদের বসত বাড়ি ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জিডি দায়ের করি। জিডি নং-১৩১৮। এর প্রেক্ষিতে সদর মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একাধিকবার তদন্ত করে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দায়ের করেন। যা বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত কক্সবাজারে বিচারাধীন এবং গতকাল ৬ অক্টোবর অভিযুক্তদের প্রতি কারন দর্শানোর আদেশ প্রচারিত হয়েছে।
এসব অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে উক্ত বসতবাড়িগুলো দখলে নিতে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া চালিয়ে যাওয়ায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ৩ অক্টোবর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পুনরায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
অন্যদিকে একই দিন শনিবার (০৩ অক্টোবর) রাতে ১৫/২০ জনের সস্বস্ত্র একটি দল আমাদের উদ্বাস্তু পরিবার গুলোর বসত ভিটা দখলে নিতে ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। স্থানীয় পৌর ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মোর্শেদ আহমেদ বাবু তাদেরকে পাঠিয়েছেন বলেও জানান তারা। এসময় স্থানীয়দের বাঁধার মুখে এবং পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সরে পড়ে।
তার পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর জনৈক হারুন নামে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে অভিযোগকারী দেখিয়ে ১২ নং ওয়ার্ড পৌর কাউন্সিলর স্বাক্ষরিত একটি নোটিস উদ্ভাস্তু পরিবারের ৩ সদস্যের নামে পাঠানো হয় । উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা বিষয় নিয়ে পৌর কাউন্সিলর স্বাক্ষরিত নোটিশ পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আইনজীবী কর্তৃক ৫ অক্টোবর ১২নং পৌর কাউন্সিলর কাজী মোর্শেদ আহমেদ বাবু ও পৌর মেয়র বরাবর ফিরতি লিগ্যাল নোটিশ প্রেরন করা হয়।
এতোকিছুর পরও সঠিক তথ্যগুলো ধামাচাপা দিয়ে উদ্ভাস্তু পরিবারের কারো কোন বক্তব্য না নিয়ে কাল্পনিক সংবাদ পরিবেশন করা সাংবাদিকতা নীতিমালা বিরোধী। মুলত প্রশাসনসহ সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে এবং উদ্ভাস্তু পরিবারের বসত ভিটা দখলে নিতেই একটি মহল সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য প্রদান করে সু-কৌশলে সম্পূর্ন মিথ্যা বানোয়াট সিন্ডিকেট সংবাদটি প্রকাশিত করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। পাশাপাশি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

বিবৃতি প্রদানকারী—
মোহাম্মদ আয়াজ
টিএন্ডটি রোড, কলাতলী, ১২নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার।

ট্যাগ :