বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

মেসির পেনাল্টির ক্যারিশমায় আর্জেটিনার জয়

প্রকাশ: ২০২০-১০-০৯ ০৬:৩০:১৯ || আপডেট: ২০২০-১০-০৯ ০৬:৩৯:৫৭

অনলাইন নিউজ: পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়েই বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শুরু করল আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক লিওনেল মেসির পেনাল্টি থেকে করা গোলে তারা ১-০ গোলে হারিয়েছে ইকুয়েডরকে। ম্যাচটা হয়েছে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের ঘরের মাঠ লা বোম্বানেরায়।
আগের দিনই জানা গিয়েছিল, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা কাদের নিয়ে নামতে পারে। মূল একাদশে সেই গুঞ্জনটাই সত্যি হলো। গত কয়েক মাস ধরে আর্সেনাল ও পরে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে দুর্দান্ত খেলা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ জায়গা পাননি। মূল একাদশে থাকা হয়নি গত মৌসুমে ইতালিয়ান লিগের সেরা খেলোয়াড় পাওলো দিবালা কিংবা আতালান্তার হয়ে দুর্দান্ত খেলা উইঙ্গার আলেহান্দ্রো গোমেজের। ৪-৩-৩ ছকে মাঠে নামা আর্জেন্টিনা গোলপোস্টে ভরসা রেখেছে রিভার প্লেটের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কো আরমানির ওপর, যে আরমানি গত কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার মূল গোলরক্ষক ছিলেন।
রক্ষণভাগে অভিজ্ঞতা ও অনভিজ্ঞতার মিশেল ঘটল সমান সমান। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে সদ্য বেনফিকায় যোগ দেওয়া অভিজ্ঞ সেন্টারব্যাক নিকোলাস ওতামেন্দি মাঝে জুটি বাঁধলেন রিভার প্লেটের তরুণ লুকাস মার্তিনেজ কার্তার সঙ্গে। দুই ফুলব্যাক হিসেবে জুটি বাঁধলেন আয়াক্সের অভিজ্ঞ তারকা নিকোলাস তালিয়াফিকো (লেফটব্যাক) ও রিভার প্লেটের তরুণ রাইটব্যাক গনসালো মন্তিয়েল। রক্ষণভাগে যেহেতু রিভার প্লেটের দুই তরুণ ছিলেন, তাঁরা যেন গোলরক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে গিয়ে কোনো সমস্যা না পড়েন—তাই গোলপোস্টের নিচে মার্তিনেজের জায়গা পান আরমানি।
মিডফিল্ডে পিএসজির লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঝে রেখে দুপাশে খেলে গেছেন সেভিয়ার মার্কোস আকুনিয়া ও উদিনেসের রদ্রিগো দি পল। ডানদিকে মেসি, বাঁ দিকে সেভিয়ার লুকাস ওকাম্পোসের সঙ্গে ওপরে ইন্টার মিলানের লওতারো মার্তিনেজ।
কাগজে-কলমে দুর্দান্ত দল হলেও গোটা ম্যাচ জুড়ে গোলমুখ খুলতে গিয়ে হাঁসফাঁস করেছে আর্জেন্টিনা। ১২ মিনিটে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে পেনাল্টি।
ডান প্রান্ত থেকে বিপজ্জনকভাবে ডি-বক্সে ঢুকে যাওয়া আর্জেন্টাইন উইঙ্গার ওকাম্পোসকে ফেলে দেন ইকুয়েডরের পেরভিস এস্তুপিনিয়ান। পেনাল্টিতে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। এই নিয়ে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ৭১ গোল হয়ে গেল মেসির। দক্ষিণ আমেরিকান খেলোয়াড় হিসেবে নিজের দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল দেওয়া খেলোয়াড়দের তালিকায় মেসির সামনে এখন শুধুই ব্রাজিলের পেলে। পেলের গোলসংখ্যা ৭৭। ওদিকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সবচেয়ে বেশি গোলদাতার তালিকায় মেসি আছেন সবার ওপরে, সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ, উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে। দুজনের গোলই ২২।
এই পেনাল্টি নেওয়ার সময়েও হয়েছে আরেক নাটক। যাঁর পড়ে যাওয়ার কারণে এই পেনাল্টি আদায় হয়েছিল, সেই ওকাম্পোস নিজে হয়তো পেনাল্টিটা নিতে চেয়েছিলেন। মেসিকে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসতে দেখে অধিনায়ককে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘তুমি কি পেনাল্টিটা নেবে?’ শেষমেশ মেসিই পেনাল্টিটা নেন। ইকুয়েডরের গোলরক্ষক আলেক্সান্ডার দমিঙ্গেসের বাঁ দিকে শটটা মেরেছিলেন মেসি। দমিঙ্গেস ঠিক দিকে ঝাঁপ দিয়ে বলের নাগাল পেয়েই গিয়েছিলেন প্রায়, তবে মেসির শটে এতটাই জোর ছিল যে ঠেকাতে পারেননি।
বাকি সময় এই এক গোলেই এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। মিডফিল্ডে পারেদেস, দি পল রা থাকা সত্ত্বেও তেমন আক্রমণ গড়ে ওঠেনি মাঝখান দিয়ে। মিডফিল্ড থেকে আক্রমণভাগের সংযোগ স্থাপন করার জন্য তেমন কারও আগ্রহ ছিল না। এমনকি মাঝে মাঝে ভয়ংকর হয়ে উঠছিল ইকুয়েডরের কিছু কিছু আক্রমণ। তাঁদের আক্রমণভাগে আরও কার্যকরী খেলোয়াড় থাকলে হয়তো সমতায় চলেও আসত দলটি। পরে আকুনিয়ার জায়গায় বোকা জুনিয়র্সের এদুয়ার্দো সালভিও, লওতারো মার্তিনেজের জায়গায় বায়ার লেভারকুসেনের লুকাস আলারিও, মন্তিয়েলের জায়গায় ভিয়ারিয়ালের হুয়ান ফয়থ কিংবা ওকাম্পোসের জায়গায় স্টুটগার্টের নিকোলাস দমিঙ্গেসকে নামিয়েও লাভ হয়নি, কারও খেলাতেই তেমন ধার ছিল না।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন ওকাম্পোস ও দি পল। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে মেসির দুর্দান্তভাবে বানিয়ে দেওয়া এক বলে শট নিয়ে গোলমুখে মারতে পারেননি দি পল, বাইরে মেরেছেন।
মেসি অবশ্য পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে বাছাইপর্ব শুরু করতে পেরেই খুশি, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা অনেক কঠিন হবে, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা জিতেছি। জয় দিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বটা শুরু করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ আমরা জানি, বাছাইপর্ব কতটা কঠিন। অনেক দিন আমরা জাতীয় দলের হয়ে খেলিনি, তাই সে চিন্তাটাও ছিল একটু। এই চিন্তাই ব্যাপারগুলোকে আরেকটু কঠিন করে দেয়। আমাদের সবার জন্য বছরটা অনেক কঠিন। এমন বছর আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে খেলার সুযোগ পাওয়াটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। সকল আর্জেন্টাইনকে আমার ভালোবাসা।’

ট্যাগ :