বাংলাদেশ , শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২১

উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে পাঁচ হাজার বসতবাড়িসহ একশ ১৫ চিংড়ি ঘের প্লাবিত

প্রকাশ: ২০২১-০৫-২৬ ১০:৪২:০২ || আপডেট: ২০২১-০৫-২৬ ১২:৫৫:০৮

Spread the love

বিশেষ প্রতিবেদক : ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ এর প্রভাবে কক্সবাজারের উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে গাছপালা, বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ৫ হাজার বসতবাড়ি। এছাড়া ১১৫টি চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়েছে। জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের শতাধিক গ্রামে ঢুকে পড়েছে জোয়ারের পানি। কক্সবাজার শহরের অন্তত তিনটি এলাকায় বেড়িবাঁধ উপচে পড়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কেও আচড়ে পড়ছে জোয়ারের পানি।

মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়ন, কালারমারছড়া ইউনিয়ন এর নিম্নাঞ্চল, ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন এর ঠাকুরতলা, জালিয়াপাড়া ও মুদিরছড়া প্লাবিত হয়েছে।
মহেশখালী পৌরসভার চরপাড়া, বড় রাখাইন পাড়া, লামারপাড়া, কুতুবজুমের ঘড়িভাঙ্গা ও সোনাদিয়া দ্বীপ ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। সেখানে শতাধিক বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং কক্সবাজার জেলার নিম্নাঞ্চল বিশেষ করে, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফের অন্তত ১১৫ টি চিংড়ি ঘেরের বাধ ভেঙে উচ্চ জলোচ্ছ্বাসে সয়লাব হয়ে গেছে। দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রবল জোয়ারের পানিতে উপড়ে যাচ্ছে গাছপালা। ভাঙন ধরেছে জেটির পন্টুনে ও রাস্তাঘাটে। তবে মানুষের জানমাল রক্ষায় সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে বেড়িবাঁধের ব্লকে ধ্বস নেমেছে।

মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, জোয়ারের পানিতে মাতারবাড়ি ইউনিয়নের ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে পানি। এরই মধ্যে ৫০টি ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। উপড়ে গেছে গাছপালা। স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে খাদ্য সহয়াতা দেয়া হচ্ছে। রাতে জোয়ারে পানির উচ্চতা আবারো বৃদ্ধি পেলে এবং তা লোকালয়ে ঢুকে পড়লে তাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান , কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং, আলী আকবরডেইল ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ২০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে শতাধিক পরিবার।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর আহমেদ জানান, জোয়ারের পানি ও ঝড়ো বাতাসে সেন্টমার্টিনে গাছপালা ও রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং জোয়ারের তীব্রতায় জেটির পন্টুনে ফাটল ধরেছে।

এদিকে ঘুর্ণিঝড় ‘যশ’ এর ঝুঁকি থেকে কক্সবাজার মুক্ত বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান।
তিনি বলেন, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। সাগরের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর প্রভাবে সাগর এখন খুবই উত্তাল।

কক্সবাজারের ডিসি মো. মামুনুর রশীদ বলেন, কক্সবাজার উপকূলে ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়েছিল দু’দিন আগেই। প্রস্তুত রাখা হয়েছিল আশ্রয়কেন্দ্র এবং স্বেচ্ছাসেবকদের। মানুষের জানমাল রক্ষায় আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জেলার নিম্নাঞ্চলের ১১৫টি চিংড়ি ঘের পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে প্রায় ৫ হাজার বসতবাড়ি।

মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের এমপি আশেক উল্লাহ রফিক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে সেখানে নিরাপদ আশ্রয়ে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে চিংড়ি ঘেরের যে ব্যাপক ক্ষতি তা এ মুহূর্তে নিরুপণ করা সম্ভব নয়। ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ এর প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে যারা বসতবাড়ি হারিয়েছেন তাদের তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের ৫৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায় ২০০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

ট্যাগ :