বাংলাদেশ , শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২১

বুকফাটা আর্তনাদ : ‘আমার সোনার মানিকের কাল হলো সমুদ্র’

প্রকাশ: ২০২১-০৯-২০ ০৯:১৮:১৫ || আপডেট: ২০২১-০৯-২০ ০৯:১৯:৪৪

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক : ছেলের মরদেহ পৌঁছানোর খবরে দৌড়ে চলে আসেন মা ফিরোজা বেগম। এ সময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা বুকফাটা আর্তনাদে ফেটে পড়েন। মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশটা আরও ভারী হয়ে ওঠে।

কাঁদতে কাঁদতেই মা বলতে থাকেন, সমুদ্র যেন আমার সোনার মানিকের জীবনের কাল হলো। আনন্দ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ছেলেটা আমার না ফেরার দেশে চলে গেল। আমার সোনার মানিক ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু লাশ হয়ে। সে আর কখনই মা বলে ডেকে জড়িয়ে ধরবে না।

সদ্য ছেলে হারানো এই মা বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ঘুরে বেড়ানোর ছবি পাঠিয়েছে। তারে বলেছি এখন আবহাওয়া ভালো না। বেশি সমুদ্রে থাকবি না।

হতভম্ব অবস্থায় পাশের একটি চেয়ারে বসে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিলেন বাবা যশোরের পরিচিত মুখ কবি কাসেদুজ্জামান সেলিম। পাশেই থাকা স্বজন সহকর্মীরা ও যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মীরা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

বিলাপ করে বাবা বলছিলেন, তুই আমাদের ছেড়ে চলে গেলি বাপজান। ফিরে আই বাপ! বড় আদরের ছেলে তুই। আমার ৪ ভাই তোরে তাদের আপন ছেলের মতো দেখে। ওরে খুব ভালোবাসতো। আহা ছেলেটা চলে গেল। সবাই দোয়া করবেন ছেলেটার জন্য।

শান্তশিষ্ট ছেলে রাফিদ ঐশিককে যারা চিনতেন তারা জানতেন, পরিবারের সবচেয়ে আদরের মানুষটি ছিলেন তিনি। শান্তশিষ্ট ও ভদ্র হওয়ায় এলাকার মানুষের কাছেও তার পরিচিতি ছিল অন্যরকম। হঠাৎ সেই ছেলের মৃত্যুতে যশোর উপশহরের এ ব্লকে তাদের বাড়িটিতে নেমে আসে সুনসান নীরবতা।

রোববার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে যখন ঐশিকের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি তাদের বাসার সামনে এসে থামে শত শত মানুষের কান্নার রোলে ভাঙে সে নীরবতা। কান্নার শব্দ ছাপিয়ে যায় বাড়ি থেকে পাড়ায়।

এর আগে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে যশোর শহরের লালদিঘির পূর্বপাড়ের বাড়িতে এসে পৌঁছায় মেহের ফারাবি অভ্রর মরদেহ। অভ্রর মরদেহ পৌঁছাতে মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা বুকফাটা আর্তনাদে ফেটে পড়েন। অভ্রর মা ও বাবা বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন।

অভ্রর মামা মাহমুদুল ইসলাম বলেন, কারো বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। এটা আমরা স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই মেনে নিয়েছি। আমার ভাগ্নের জন্য দোয়া করবেন সবাই।

দুপুরে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অভ্রর জানাজ হওয়ার কথা থাকলেও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে তা হয় আসর বাদ। জজ কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজায় যশোরের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে কারবালা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আর সন্ধ্যায় গাবতলা শিশুপার্ক মাঠে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে রাফিদ ঐশিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় যশোরের আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে ঘোপ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

ট্যাগ :